যশোর প্রতিনিধি:
যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল হক রেজা।
পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল হক রেজা পিপিএম দৃঢ় কণ্ঠে বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করাই হবে পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ভোটের বাক্সের সাথে পুলিশের কোনো সম্পর্ক নেই। পুলিশের দায়িত্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি নির্বাচনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের প্রস্তুতি এবং গ্রহণ করা বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।
ডিআইজি রেজাউল হক রেজা বলেন, পুলিশ একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল বাহিনী। আমাদের প্রধান কাজ হলো জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো পুলিশ সদস্য যদি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, কোথাও যদি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে কিংবা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রয়োজন অনুযায়ী রাবার বুলেটসহ আইনসম্মত সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন—সেটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন হবে অনেক বেশি সুশৃঙ্খল, নিরপেক্ষ ও সফল।
ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালেট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদানসহ যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে, পুলিশ বাহিনী তা শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়ন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ডিআইজি আরও বলেন, নির্বাচন শুধু পুলিশের একার দায়িত্ব নয়। এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস।
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, গণমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায়ই একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠনের বিষয়েও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।