হামলাকারীদের আটক ও শাস্তির দাবি  করেছেন যশোরের হিজড়া জনগোষ্ঠী 

Share

যশোর অফিস 
যশোরে একটি হিজড়া গোষ্ঠীর ওপর আরেকটি হিজড়া গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পক্ষের সদস্যরা। রোববার ২৬ জানুয়ারি) বিকেলে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আনজুয়ারা হিজড়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সম্প্রতি এলাকায় জাকির ওরফে চুমকি (তৃতীয় লিঙ্গ) নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি হিজড়া গোষ্ঠী তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের কয়েকজন সদস্য আহত হন এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। ঘটনার পর যশোর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্ত পক্ষ আবারও তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন,এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে এবং তাদের কর্মস্থলে গিয়ে বাধা সৃষ্টি করছে, যা তাদের জীবনের জন্য চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আনজুয়ারা বলেন,“আমরা কোনো সংঘাত বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে বিশ্বাসী নই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান চাই।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদনী হিজড়া বলেছেন, যশোরের হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাকে গুরু মা হিসাবে তাকে চিহ্নিত করেছেন। এ বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না জাকির ওরফ চুমকি হিজড়া। সে যশোরের বিভিন্ন জায়গায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেছে এবং প্রকৃত হিজরা গোষ্ঠীর উপরে হামলা করছে। সে সব সময় ব্যাগের মধ্যে চাকু দা নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আর ভয়ভীতি দেখায়। তিনি চুমকি হুজড়ার বিরুদ্ধে আইনানুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, মানবাধিকার সংস্থা ও সমাজের সচেতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবন ও সম্মান রক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আনজুয়ারা হিজড়া। এসময় মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চাঁদনী, মায়া, ভাবনা, পূজা, শিমলা, পায়েল, সানজিদা, নীলা, মহিনি,দুখিনি, নুপুর, কাকলী, সুবর্ণা, মুসকান প্রমূখ।

Read more