ধানের শীষ প্রতিককে বিজয়ী করতে বাহাদুরপুরে সচেতন নাগরিক সমাজের মতবিনিময় 

Share

যশোর অফিস 
 আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিক সমাজের সাথে “সবার আগে বাংলাদেশ”- শীর্ষক এক মত বিনিময় সভা গতকাল বিকেলে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বাহাদুরপুর পশ্চিমপাড়ায় অনুষ্ঠিত হয়। সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু। ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে প্রচারনামূলক এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। সভায় বক্তৃতা করেন
প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সহ সভাপতি ও সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক নেতা নূর ইসলাম, যশোর সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আলম, সদর উপজেলার বিএনপির সমবায় ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি মেম্বর রুহুল আমিন, বিশিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও যশোর ইন্সটিটিউট নাট্যকলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান কিনা, বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার রাকিবুদ্দৌল্লাহ শুভ্র, জেলা যুবদলের সদস্য সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, কামরুল ইসলাম কামরুল, জেলা যুব শক্তির সাধারণ সম্পাদক মিলন শেখ আপন প্রমুখ। এছাড়া যশোর চেম্বারের পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী খোকন, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আফসার উদ্দিন মোল্যা,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার মুরাদ হোসেন, বিশিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও যশোর আইটি পার্কের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার শাহরিয়াজ বিশ্বাস সোহাগ, যুবদল নেতা সুইট, ছাত্রদল নেতা শফিউল্লাহ, মহিলাদল নেত্রী রুপাসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, মহিলাদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষকদল ও শ্রমিক দলের কয়েকশ কর্মী সমর্থক এবং স্থানীয় হিন্দুপাড়ার বাসিন্দাসহ কয়েকশ’ নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ তীতিক্ষার বর্ণনা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিএনপি এদেশের মানুষের ভ্যাগ্যের পরিবর্তনের জন্য রাজনীতি করে। বিগত বছর গুলোতে যখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে তখনই এদেশের মা, মাটি ও মানুষের কল্যাণে নানা রকম কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খালখনন কর্মসূচী, ইরিগেশন এবং গমের চাষাবাদ বৃদ্ধির কর্মসূচী, গ্রাম সরকার পদ্ধতি চালুর কর্মসূচী, সুখি পরিবার কর্মসূচী, আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচীসহ হাজারও কর্মসূচী গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তুলেছিলেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরী করে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার সরকার তিন তিন বার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে দেশের সকল সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছিলেন। এই দুই রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবে যশোর উন্নয়নের কারিগর প্রয়াত মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম যশোরের উন্নয়নে যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন তা আর কেউ করতে পারেননি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর আড়াইশ’ বেড হাসপাতাল, যশোর করোনারী কেয়ার ইউনিট, যশোর মেডিকেল কলেজ, যশোর শিক্ষা বোর্ড, যশোর কাস্টমস হাউজ, যশোর জজ কোর্টসহ হাজারো উন্নয়নের সারথী ছিলেন মরহুম তরিকুল ইসলাম। কিন্তু গত ১৫ বছরে পতিত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের এমপি মন্ত্রীরা দেশ পরিচালনা করলেও যশোরের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন কাজ করেননি। তারা করেছিলেন নিজের উন্নয়ন আর খুন, গুম, অপহরণ আর সন্ত্রাসের উন্নয়ন। বিএনপি এই অপরাজনীতিকে ঘৃনা করে। বিএনপি উন্নয়ন, শান্তি ও সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের নেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ঘুনে ধরা এই যশোরের সমাজ ব্যবস্থাকে ফের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলায় পরিনত করতে চান। তিনি বিশ্বাস করেন, সন্ত্রাস নয়, ভালোবাসা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করা সম্ভব। আর সেই বিজয় স্থায়ী হয়। তাই শান্তি ও সম্প্রীতির শহর ও জেলা গড়ে তুলতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রতি জনসমর্থন দিয়ে জননেতা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আমাদের প্রতিনিধি করে জাতীয় সংসদে পাঠাতে হবে।
বক্তারা বলেন, ভোটের সময় অনেক বসন্তের কোকিল জড়ো হয়। তারা নানা রকম প্রতিশ্রুতি আর টিকিট বিক্রি করে চলে যায়। কিন্তু বিএনপি এই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির রাজনীতি করে না। বিএনপি যা বলে তাই করে। আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তাই বার বার বলেছেন, এই দেশেই আমার শেষ ঠিকানা। এই দেশ ছাড়া বিশ্বে আমার কোন ঠিকানা নেই। এই দেশে আমার জন্ম, এই দেশেই আমার মৃত্যু হবে। এই দেশ ছেড়ে আমি কোন দিন কোথাও যাবো না। তাইতো মহান রাব্বুল আলামিন তাঁর ডাক শুনেছেন। সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে তার খাস মেহমান হয়েছেন। আমরা দোয়া করি এই মহান দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ককে আল্লাহ যেন জান্নাতের শ্রেষ্ঠতম মাকাম দান করেন। আর যারা কথায় কথায় বলতো আমরা পালায় না; সেই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার স্বদলবলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। জনরোষের শিকার হয়ে তারা আজ দেশান্তরী। তাই মানুষের কল্যানে কাজ করলে যেমন মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়, তেমনি মহান রবের দরবারেও সম্মানীত হওয়া যায়। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধন করি। আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাই তো বলেছেন, আমি নয়, আমরা, আমার নয়, আমাদের, সবার আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আসুন সবার আগে বাংলাদেশ এই শ্লোগানকে বুকে ধারন করে একটি স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতা তথা সকল সেক্টরে দেশের মর্যাদা ও দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা এবং ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার যে সুযোগ আমাদের দামাল ছেলে মেয়েরা বুকের রক্ত দিয়ে তৈরী করে দিয়েছেন তাদের রক্তের ঋণ পরিশোধের যে সুযোগ আমরা পেয়েছি তা হেলায় নষ্ট না করে ধানের শীষ প্রতিকে আমাদের রায় প্রদান করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ গ্রহণ করি। ধানের শীষকে বিজয়ী করি। পরে ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে একটি বিশাল প্রচার মিছিল বাহাদুরপুর গ্রাম প্রদক্ষিণ শেষে কিসমত নওয়াপাড়া মোড়ে অমিতের নির্বাচনী কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।

Read more