যশোরে সংখ্যালঘু সম্পত্তি ঘিরে সন্ত্রাসের অভিযোগ

Share

যশোর প্রতিনিধি:
যশোর শহরের রেল রোড ফুড গোডাউন এলাকায় একটি ওয়ারিশহীন হিন্দু সম্পত্তি ঘিরে জাল দলিল, দখলচেষ্টা ও সন্ত্রাসী হুমকির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাব্বি ইসলাম শুভ ওরফে ‘খোঁড়া শুভ’—যাকে স্থানীয়রা কথিত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিত্যক্ত ও ওয়ারিশহীন সম্পত্তিকে লক্ষ্য করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের নেতৃত্বে বা প্রভাবশালী ভূমিকায় ‘খোঁড়া শুভ’-এর নাম বারবার উঠে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে জমির মালিকানা দাবি করা হচ্ছে এবং এর বিরোধিতা করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুভ নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত দাবি করে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি দেখান। এতে করে সংখ্যালঘু সম্পত্তির নিরাপত্তা যেমন হুমকির মুখে পড়েছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকদের বসবাসের মৌলিক অধিকারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ‘খোঁড়া শুভ’-এর বিরুদ্ধে অতীতেও চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—কেন তিনি এতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে?
এলাকাবাসীর আরও গুরুতর অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের সঙ্গে শুভর যোগাযোগ রয়েছে—এমন আলোচনা এলাকায় দীর্ঘদিনের। আগস্টের পরও তার সঙ্গে কিছু কর্মকর্তার ওঠাবসা রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। সংখ্যালঘু সম্পত্তি দখলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সন্ত্রাসী হুমকি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় আতঙ্ক আরও বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, এটি শুধু একটি জমি দখলের অভিযোগ নয়; বরং সংখ্যালঘু অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের একটি বড় পরীক্ষা। অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলচেষ্টা আরও উৎসাহিত হবে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।
এলাকাবাসীর দাবি, কথিত সন্ত্রাসী ‘খোঁড়া শুভ’-কে দ্রুত আটক করে আইনের আওতায় আনতে হবে, জাল দলিল তৈরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সংখ্যালঘু সম্পত্তির স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Read more