প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে, ইসলাম কী বলে?

Share

বিয়ে মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা জীবনের অপরিহার্য চাহিদা পূরণের জন্য অপরিসীম ভূমিকা রাখে। বিয়ে বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অগণন অনুগ্রহের একটি। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গীণীকে, যাতে তোমরা তাদের নিকট শান্তি লাভ করতে পার ও তোমাদের (স্বামী-স্ত্রীর) পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে, সেইসব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সুরা: রূম, আয়াত ২১)

এছাড়া ইসলামের দৃষ্টিতে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য নয়, তবে এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে, তবে শর্ত হলো, স্ত্রীর প্রতি ন্যায় ও সমান আচরণ বজায় রাখতে হবে। একাধিক স্ত্রীর মধ্যে বৈষম্য করলে কিংবা তাদের হক আদায় করতে না পারলে, দ্বিতীয় বিয়ে করা ইসলামে জায়েজ নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই। (সুরা নিসা: ৩)

একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে সমান আচরণ না করলে আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার দু’জন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। (সুনানে আবু দাউদ)

আর দ্বিতীয় বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য না হলেও স্ত্রীর প্রতি সদাচারের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা স্ত্রীকে বুঝিয়ে অনুমতি নেওয়া স্বামীর নৈতিক কর্তব্য। যেহেতু স্ত্রীর প্রতি সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও উত্তম আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব, স্ত্রীকে খুশি রাখাও স্বামীর একটি দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে অপছন্দ করছ, তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন। (সুরা নিসা: ১৯)

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (সুনানে তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) উপদেশ অঙ্গীকার গ্রহণ কর। পাজরের হাঁড়ের সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল এর ওপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে যথাবস্থায় রাখলে তা সদা বাঁকাই থেকে যাবে। নারীদের প্রতি কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ কর। (সহিহ ‍বুখারি)

 

Read more