প্রচণ্ড শীতেও ট্যাংকের পানি গরম রাখার সহজ পদ্ধতি

Share

শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠে ট্যাপ ছাড়লেই যখন বরফ শীতল পানি হাতে লাগে, তখন সাধারণ কাজগুলোও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যেখানে গিজার লাগানো ব্যয়বহুল বা ইমারসন রডের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের দুশ্চিন্তা থাকে, সেখানে সকালে গোসল করা এক বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বা গ্যাস খরচ ছাড়াই কেবল কিছু বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক কৌশল অবলম্বন করে ছাদের ট্যাংকের পানিকে উষ্ণ রাখা সম্ভব।

পানির ট্যাংক যদি ছাদের খোলা জায়গায় থাকে, তবে এর চারপাশে থার্মোকলের একটি পুরু স্তর জড়িয়ে রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে। থার্মোকল মূলত তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে, যা বাইরের প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বাতাসকে ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এবং ভেতরের তাপমাত্রা ধরে রাখে।

এটি ঠিক শীতের সোয়েটারের মতো কাজ করে যা ট্যাংকের পানিকে খুব বেশি ঠাণ্ডা হতে দেয় না। এই পদ্ধতিটি যেমন সস্তা, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী।

বাড়িতে থাকা পরিত্যক্ত বাবল র‍্যাপও এক্ষেত্রে দারুণ কাজে আসতে পারে। প্যাকেজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত এই বাবল র‍্যাপগুলো বাতাসপূর্ণ থাকে, যা ট্যাংককে বাইরের শীতলতা থেকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক হিটারের মতো কাজ করে। ট্যাংকটিকে দুই বা তিন স্তরে বাবল র‍্যাপ দিয়ে মুড়িয়ে রাখলে ঠাণ্ডা বাতাস ট্যাংকের দেয়ালে পৌঁছাতে পারে না, ফলে পানি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারের উপযোগী থাকে।

খোলা ছাদে থাকা ট্যাংকগুলোকে সরাসরি শিশির ও উত্তুরে হাওয়া থেকে বাঁচাতে টারপলিন, কাঠের শেড বা টিনের শেড ব্যবহার করা জরুরি। এমনকি গ্রামাঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পুরনো চটের বস্তা বা মোটা কাপড় দিয়ে ট্যাংক ঢেকে রাখলেও তা ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞানের একটি সহজ নিয়ম ব্যবহার করেও পানির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কালো বা গাঢ় রঙের বস্তু তাপ বেশি শোষণ করে। তাই পানির ট্যাংক যদি কালো, গাঢ় নীল বা বাদামি রঙের হয়, তবে তা সূর্যের আলো থেকে দ্রুত তাপ সংগ্রহ করতে পারে।

ট্যাংকটি যদি ছাদের সবচেয়ে রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে রাখা যায়, তবে সারাদিনের সৌরশক্তি পানিকে উল্লেখযোগ্য ভাবে গরম রাখতে সাহায্য করবে। রাতে তাপ বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে ট্যাংকটি ঢেকে রাখলে পরদিন সকালেও তুলনামূলক উষ্ণ পানি পাওয়া সম্ভব।

কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই এই সাধারণ কৌশলগুলো শীতকালীন দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে।

 

Read more