যশোর অফিস
যশোর শহর ও জেলার পৃথক দুটি স্থানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এক ঘটনায় শহরের হাটখোলা রোডে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এবং অন্য ঘটনায় বাঘারপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল খোয়া গেছে।
যশোর শহরের হাটখোলা রোডে অবস্থিত ‘জনতা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকানে রোববার দিবাগত রাতে ছাদের টিন কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার অরুণ সাহা জানান, সোমবার সকালে দোকান খুলে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চোরেরা দোকানের ছাদের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ক্যাশবাক্সে থাকা ৭০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এছাড়া স্টক মিলিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৮০ হাজার টাকার বিভিন্ন মালামালও খোয়া গেছে।
ঘটনার বিষয়টি তিনি প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভিরুল ইসলাম সোহানকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৪৬ নম্বর মহিরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় খুলতে গিয়ে নৈশপ্রহরী মো. রাজু আহমেদ চুরির বিষয়টি প্রথমে লক্ষ্য করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চোর বা চোরেরা বিদ্যালয়ের পেছনের একটি জানালার কপাট ও লোহার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অফিস কক্ষের একটি স্টিলের আলমারি ভেঙে ফেলে। আলমারি থেকে আনুমানিক পাঁচ হাজার টাকা ও একটি দামী মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুনকে জানানো হলে তিনি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের বারান্দা ও আশপাশ এলাকায় কিছু উঠতি বয়সের যুবক নিয়মিত আড্ডা ও মাদক সেবন করে থাকে। স্থানীয়দের ধারণা, তাদের মধ্য থেকেই কেউ এই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট, তালা ভাঙা, দরজা ক্ষতিগ্রস্ত করা ও শ্রেণিকক্ষের ভেতরে অশোভন কার্যকলাপের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা খাতুন বলেন, “বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।”
অন্যদিকে, যশোর কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল জানান, জনতা এন্টারপ্রাইজে সংঘটিত চুরির ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং চোর শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ দুটি চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।