স্বাধীনতা দিবস এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানি পুলিশ সুপার

Share

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেননি
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পরেও।

বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোতে ‘গার্ড অব অনারেও তিনি উপস্থিত থাকেননি।
এর আগে পুলিশ সুপার একুশে ফেব্রুয়ারিতেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেননি । বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সমাজে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বুধবার সকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফারুকী পার্কের স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
সেসময় স্মৃতিসৌধ এলাকায় পুলিশ সুপার এহতেশামুল হক উপস্থিত থাকলেও তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এরপর ‘গার্ড অব অনার’ এর মাধ্যমে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন উপস্থিত থাকলেও পুলিশ সুপার ছিলেন না।
পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও পুলিশ সুপার শহীদ মিনারে ফুল দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
যদিও সেদিন তার পাশে থাকা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন তখন পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছিলেন।
টানা দুই জাতীয় দিবসে পুলিশের সর্বোচ্চ স্থানীয় কর্মকর্তা হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণ না করায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বলছেন, একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা হয়ে জাতির গুরুত্বপূর্ণ দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানানো দুঃখজনক।

পুলিশ সুপারের এই আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একে ‘দায়িত্বহীনতা’ বলেছেন। তারা সরকারি কর্মচারীদের জাতীয় দিবসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবদুন নূর বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে একজনকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় আইন মানতে হবে। কেউ যদি স্মৃতিসৌধে ধর্মীয় বোধ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করাকে সমীচীন না মনে করেন, তাহলে চাকরি না করে তার বাড়িতে চলে যাওয়া উচিত।
জেলা প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “প্রত্যেকেই তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের জাতীয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে পালন করা উচিত।
জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “পুলিশ সুপার শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন না। এজন্য অধীনস্থ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের মোবাইল ফোনে সাংবাদিকরা একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তাতেও তিনি সাড়া দেননি।
চট্টগ্রাম বিভাগের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে আমরা জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধে গিয়ে থাকি, পুষ্পস্তবক অর্পণ করি। এটা এভাবেই হয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তাতেও তিনি সাড়া দেননি।

Read more