দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আবারও ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন নেইমার। প্রায় আড়াই বছর পর জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নেমে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই তারকা ফুটবলার।
ম্যাচ শেষে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় তাকে।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৭৫ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার।
ম্যাথিউস কুনহার জায়গায় নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এটাই ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে তার প্রথম ম্যাচ।
অর্থাৎ ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের হয়ে মাঠে ফিরলেন সেলেসাওদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ম্যাচে খুব বেশি সময় না পেলেও ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ে নিজের প্রত্যাবর্তনের আনন্দ উপভোগ করেন নেইমার।
তবে ম্যাচ শেষে দেখা যায় ভিন্ন এক দৃশ্য। শেষ বাঁশি বাজার পর সরাসরি গ্যালারির দিকে ছুটে যান তিনি। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা।
গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন নেইমারের স্ত্রী ব্রুনা বিয়ানকার্দি, যিনি বর্তমানে তাদের সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া ছিলেন তার বড় ছেলে ১৪ বছর বয়সী ডেভি লুকাও। বাবার কাছে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের বাধার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর নেইমারের কাছে যেতে সক্ষম হয় সে।
এরপর বাবা-ছেলের সেই আলিঙ্গনের মুহূর্ত আবেগ ছড়িয়ে দেয় পুরো স্টেডিয়ামে। দীর্ঘদিনের লড়াই, ইনজুরি, পুনর্বাসন আর প্রত্যাবর্তনের গল্প যেন এক মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নেইমারও আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায় তাকে।
পরে নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে নেইমার বলেন, ম্যাচ শেষে তিনি আবেগে ভেঙে পড়েছিলেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর সবাই একসঙ্গে কেঁদেছেন, হেসেছেন এবং আনন্দ উদযাপন করেছেন। এটি ছিল কৃতজ্ঞতা আর আনন্দের এক বিশেষ মুহূর্ত।
ব্রাজিল তারকা জানান, তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল আবারও বিশ্বকাপে খেলা এবং জাতীয় দলে ফিরে আসা। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা তার কাছে সবসময়ই বিশেষ কিছু। এই জার্সির প্রতি তার ভালোবাসা কখনো কমেনি।
সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেইমার। তিনি বলেন, এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। তবে ভক্তদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে কঠিন সময় পার করতে সাহায্য করেছে। তাই জাতীয় দলে ফিরে আসার এই মুহূর্ত তিনি দেশের মানুষের জন্যই উৎসর্গ করতে চান।