যশোরে বিক্রিত জমি নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার ও হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন 

Share

যশোর প্রতিনিধি 
যশোর শহরের আরবপুর এলাকার ২৩.৮৬ শতক বিক্রিত জমি নিয়ে অপপ্রচার ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বেনাপোলের দুই ব্যবসায়ী। তাদের দাবি জমির মালিক আব্দুস সালাম ওরফে হবি সরদারের ওয়ারেশগণ জমি জবরদখল করতে এ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমির ক্রেতা সিয়ামুজ্জামান।
গত ৬ জুন প্রতিপক্ষ সায়েদ হোসেনের করা সংবাদ সম্মেলনের জবাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সায়েদ হোসেনের সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করা হয়।
লিখিত অভিযোগে ক্রেতা পক্ষ জানান, তারা ৫জন মিলে আব্দুস সালাম সরদারের কাছ থেকে ২৩.৮৬ শতক জমি করেন। তারা প্রত্যেকেই সমাজের পরিচিত, সম্মানিত ও ব্যবসায়ী শ্রেণীর ব্যক্তি। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত থাকার এবং পালবাড়ি বা ধর্মতলায় বাড়ি, ফ্ল্যাট বা জমি থাকার যে দাবি করেছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়,জমির মূল মালিক মরহুম আব্দুস সালাম সরদার (ওরফে হবি সরদার)। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক কলহের জেরে তাঁর বড় ছেলে কামাল এবং ছোট ছেলে সায়েদ রাতের অন্ধকারে তাঁদের মা ও সহযোগীদের নিয়ে সালাম সরদারকে নির্মমভাবে মারধর করেন। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার পেয়ে তিনি তাঁর একমাত্র কন্যা ফাহমিদা কামালের বাসায় আশ্রয় নেন। এই ঘটনায় সালাম সরদার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ছেলেদের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা (মামলা নং-৩২৫৬/২০২৪) দায়ের করেন, যেখানে তাঁর ছেলেরা আসামি হন।
অসুস্থ অবস্থায় সালাম সরদারের চিকিৎসার্থে এবং তাঁর চিকিৎসাধীন ১৩ তলা বিল্ডিংয়ের খরচ মেটানোর জন্য জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি তাঁর নিজস্ব খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি সালাম সরদারের একমাত্র কন্যা ফাহমিদা কামাল সৃষ্টি ও তাঁর জামাতা রাশেদ কামাল জানেন। তৎকালীন সময়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ক্রেতা পক্ষ দুই পক্ষের বোঝাপড়ার মাধ্যমে মোট ২৩.৮৬ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি বিক্রির পর সালাম সরদার উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যান, যেখানে তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরবর্তীতে ক্রেতা পক্ষ সরকারি ভূমি অফিস থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করে নতুন খতিয়ান খুলে খাজনা পরিশোধ করেন। এরপর জমিতে বাউন্ডারি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমির একটি অংশে বাবলু তালুকদার’ নামের এক ব্যক্তির লেদ কারখানার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, যিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
কিন্তু গত ২৪ মে জিয়াউল হক, কামাল হোসেন ও সায়েদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী উক্ত জমিতে অবৈধ প্রবেশ করে বাউন্ডারি ও লেদ কারখানার ক্ষতিসাধন করে। এই ঘটনায় ওইদিন একটি মামলা করা হয়।
এর পরপরই ২৬ মে আসামিরা পুনরায় জমি দখল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জিয়াউল হক, কামাল হোসেন ও সায়েদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, সায়েদ হোসেনের দাবি—তাঁর বাবা কোনো জমি বিক্রি করেননি, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সালাম সরদার জীবিত অবস্থায় অনেকের কাছেই জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি করেছেন।
জমি বিক্রির টাকা তিনি চেক মারফত উত্তোলন করেছেন। টাকা গ্রহণের সময় তাঁর মাতা শাহিদা সালাম এবং ভাই জিহাদুল ইসলাম সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ফলে জমি বিক্রির বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য এবং পরিবারের সকলেই তা জানতেন।
এমতাবস্থায় সংবাদ সম্মেলনে ক্রয়কৃত জমিতে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ ও অপপ্রচার রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন আসাদুজ্জামান,মোখলেসুর রহমান, আতিকুজ্জামান,হাসানুজ্জামান,আজমুল ইসলাম, আনিসুর রহমান প্রমূখ।

Read more