চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে বন্ধ রয়েছে বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি তেলের সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী। মাঝে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
জানা গেছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করতে নতুন নিয়ম চালু করেছে তেহরান। নতুন ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী সব নৌযানকে আগে ইরানের অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করতে হবে।
নৌচলাচল বিষয়ক জার্নাল লয়েড’স লিস্ট বলছে, ‘পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ) এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে চাওয়া জাহাজগুলোকে আগে কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নেয়া ও টোল দেয়ার নিয়ম চালু করেছে।’
স্কুল ড্রেসে মসজিদে ছাত্রীর টিকটক ভাইরাল, অতঃপর…স্কুল ড্রেসে মসজিদে ছাত্রীর টিকটক ভাইরাল, অতঃপর…
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ মালিকানা, বীমা, ক্রু, পণ্য, যাত্রার শুরু ও গন্তব্যসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য সম্বলিত একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে অনুমতি দেওয়া হবে। তবে টোলের পরিমাণ বা আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এটি হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অংশ। পিজিএসএ-এর পক্ষ থেকে জাহাজগুলোকে ইমেইলের মাধ্যমে নতুন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার দায় আবেদনকারীকেই নিতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো দেশকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ইরান স্পষ্ট কিছু জানায়নি। তবে শনিবার (৯ মে) এক ইরানি সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তাদের জন্য এই প্রণালি ব্যবহার আরও কঠিন হতে পারে।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে এবং এখন থেকে সব নৌযানকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই চলাচল করতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি