ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে এক কঠিন দোলাচলের মধ্যে রয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কৌশল এবং এ সংক্রান্ত জনমত তৈরিতে ট্রাম্প তার চিরচেনা ‘মোজো’ বা সম্মোহনী শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। পরিস্থিতির জটিলতায় তিনি এখন কোন পথে এগোবেন, তার স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট- উভয় প্রশাসনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সাবেক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্প নিজেই ইরান যুদ্ধ নামক একটি দেয়াল বা বাক্সের মধ্যে নিজেকে বন্দি করে ফেলেছেন। এখন তিনি সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছেন না। আর এটিই বর্তমানে তার চরম হতাশার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই যুদ্ধকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে গ্রহণ করবে- এ বিষয়টি অনুমান করতে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের ভুল করেছে। আফগানিস্তান ও তুরস্কে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন বাস বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী না চলে কোনোভাবে ভিন্ন দিকে মোড় নেয়, তবে তার পরিণতি কী হতে পারে- সেসব সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে তারা পর্যাপ্ত চিন্তাভাবনা করেননি।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল সিচুয়েশন রুম’-এর প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন মনে করেন, ট্রাম্প তার চিরাচরিত অভ্যাসমতো খবরের শিরোনাম নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এখন বাধার মুখে পড়ছেন। তিনি বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) কেন দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এবং এর পরবর্তী ধাপ কী তা এখনও পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। যুদ্ধের বার্তা বা জনমত গঠনের ক্ষেত্রে তিনি যেন তার পুরনো তেজ হারিয়ে ফেলেছেন।
বর্তমানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে খোদ হোয়াইট হাউসের রণকৌশল নিয়েই প্রশ্ন উঠছে খোদ নিজ দেশের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।