যশোর প্রতিনিধি
যশোরে স্ত্রী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে হামলা, মারপিট ও স্বর্ণের আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এক প্রবাসী। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগে যশোর সদর উপজেলার আবাদ কচুয়া খাল ঘাটা পাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেম গাজীর ছেলে শুকুর আলী (৩৯) জানান,তার স্ত্রী মোছা.আসমানী বেগম (৩৫), শ্যালক বিসমিল্লাহ (৪৫), ডালিম ওরফে বাবু (২২) ও শাশুড়ি তারা বেগম (৫৫) সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়,আসমানী বেগমের সঙ্গে তার বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান লিলিমা (১৪) ও নিলুফা (১০) রয়েছে। ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি কাজের উদ্দেশ্যে ওমানে যান। বিদেশে অবস্থানকালে স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে তিনি জানতে পারেন। এ সময় তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠান, যা তার শাশুড়ির কাছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় চার মাস আগে দেশে ফিরে তিনি দেখেন স্ত্রী বাড়িতে নেই। পরে পারিবারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাকের বিষয়টি জানার পর স্ত্রী আবার এলাকায় ফিরে এসে তার মায়ের বাড়িতে ওঠেন। এরপর তাকে হয়রানি করতে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শুকুর আলী,গত ৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠি নিয়ে দলবদ্ধভাবে তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ও তার মা নাছিমা বেগমকে (৬০) গালিগালাজ ও মারধর করে। এক পর্যায়ে বিসমিল্লাহ লোহার রড দিয়ে তার নাকে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। এছাড়া ডালিম ওরফে বাবু তার ডান হাতের আঙুলে থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি খুলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশী শাওন (১৮) ও রানী খানম (২৫)সহ স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে আহত শুকুর আলী ও তার মা যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন বলেন অভিযোগ পাওয়া গেছে বিষয়টি এসআই ওয়াহিদুজ্জামান তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।