বাঘারপাড়া পাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী টিএস আইয়ূব 

Share

যশোর অফিস 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের সর্বাত্মক প্রচারণা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা, হাট–বাজারে প্রচারণা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলেছেন। যশোর-৪ (বাঘারপাড়াতিনি–অভয়নগর–বসুন্দিয়া) আসনেও নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব প্রচারণায় একটি ব্যতিক্রমী ধারা তৈরি করেছেন।
অন্য প্রার্থীরা যেখানে গাড়িবহর নিয়ে প্রচারণা করছেন, সেখানে ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি পাড়ায়-পাড়ায় থেমে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন এবং স্থানীয়দের খোঁজখবর নিচ্ছেন। তার এই সাধারণ চলাফেরা ভোটারদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার এই সহজ ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগ ভোটারদের মনোযোগ কাড়ছে।
বাঘারপাড়ার দোহাকুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বড় বড় গাড়িতে করে প্রার্থীরা আসে—এটা তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু আইয়ূব সাহেব মোটরসাইকেলে আমাদের গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে ঘুরছেন। এতে মনে হয় তিনি আমাদেরই একজন। এই সরলতা আমাদের ভালো লেগেছে।’
অভয়নগরের নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন,একদিন দোকানে বসে ছিলাম, হঠাৎ দেখি তিনি মোটরসাইকেলে এসে দাঁড়ালেন। দোকানের ভেতরে ঢুকে সালাম দিয়ে আমাদের সমস্যার কথা জানতে চাইলেন। এমন ব্যবহার খুব কম প্রার্থীর মধ্যেই দেখা যায়।’
কলেজ শিক্ষার্থী নিশাত ফারিহা বলেন, ‘তাকে মোটরসাইকেলে দেখে প্রথমে চিনতে পারিনি। পরে দেখি তিনি আমাদের এলাকার প্রার্থী। তরুণদের সঙ্গে কথা বললেন, হাসলেন। এমন ঘনিষ্ঠ আচরণ ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।’
আরেকজন ভোটার শামছুজ্জামান বলেন, ‘নির্বাচনের সময় অনেকেই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু মানুষকে কাছে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে শোনার মানসিকতা খুব কম প্রার্থীর থাকে। তার এই প্রচারণা এলাকার আলোচনার নতুন বিষয় হয়ে উঠেছে।’
ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ূব জানান, মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়াই তার মূল লক্ষ্য। বলেন, ‘মোটরসাইকেল আমার কাছে সাধারণ একটি বাহন। তবে এর মাধ্যমে আমি প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের দরজায় যেতে পারছি। ভোট চাইতে এসেছি, কিন্তু তার চেয়ে বেশি এসেছি মানুষের কথা শুনতে। তারা যেভাবে আমাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।’
নির্বাচনী মাঠে এমন প্রচারণাকে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা একটি কার্যকর রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করছেন। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে মোটরসাইকেলভিত্তিক গণসংযোগ প্রার্থীর প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ায়, বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যে।
প্রচারণা জোরদার হওয়ার সাথে সাথে যশোর-৪ আসনের নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হচ্ছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় থাকলেও মোটরসাইকেলে ঘুরে বেড়ানো এই প্রার্থী ইতোমধ্যেই ভোটারদের আলাপ-আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।

Read more