যশোর অফিস
যশোর শহরের বকুলতলা গরীব শাহ মাজারের পেছনে গণপিটুনিতে শাহিনুল ইসলাম শাহীন (৪৫) নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত শাহীনের ভাই পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ার মইন উদ্দিন বাদী হয়ে ৯ জনকে নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৪–৫ জনকে আসামি করে এ মামলা করেন। নিহত শাহীন পুরাতন কসবা ঘোষপাড়ার মুজিবর রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহারে যাদের নাম এসেছে তারা হলেন পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার বরকতের ছেলে বাবু, কাজীপাড়া গোলামপট্টির রাতুল,কাজীপাড়া মানিকতলার ছোট বাবলু, পুলিশ লাইন টালি খোলা এলাকার স্বপন ওরফে চাইনিজ স্বপন ও ইসমাইল, নিউমার্কেট এলাকার বড় শুভ, কাজীপাড়ার একরামুল ও রায়হান এবং কাজীপাড়া গোলামপট্টির রাব্বি। পুলিশ ইতোমধ্যে এদের মধ্যে দুই আসামিকে আটক করেছে রাতুল শেখ ও জাহিদুল ইসলাম বাবু।
এজাহারে বাদী মইন উদ্দিন উল্লেখ করেন,তার ভাই শাহীন একজন চালক ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে মাদক সেবন করতেন। পূর্বপরিচিত বাবুসহ অন্যান্য আসামির সঙ্গে তার ভাই মাঝে মাঝে মাদক সেবন ও অপকর্মে জড়াতেন। গত ১৯ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহীন বাবু, রাতুল ও ছোট বাবলুকে নিয়ে বকুলতলা গরীব শাহ মাজারের পেছনে চুরি করার উদ্দেশ্যে গেলে সেখানে উপস্থিত লোকজন ঘটনাটি টের পান। এসময় তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পরে আসামিরা একত্রিত হয়ে লাঠি, সোটা ও লোহার রড দিয়ে শাহীনকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়।
গুরুতর জখম অবস্থায় আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ভাই ঘটনাটি শুনে আসামিদের চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে পুরাতন কসবা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি রাতুল ও জাহিদুল ইসলাম বাবুকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যান্য আসামিদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।