যশোর অফিস
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বাজুয়াডাঙ্গা গ্রামের অসহায় মা মণিরা খাতুন এবং তাঁর তিন বছরের কন্যা আফিয়ার মানবেতর জীবনের করুণ সংবাদটি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র আলোড়ন।
জন্মের সময় আফিয়ার চেহারা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শিশুদের মতো হওয়ায়
নিজের সন্তান আর স্ত্রীর সঙ্গেই সর্ম্পক ছিন্ন করে বিদেশে পাড়ি জমান বাবা মোজ্জাফর।
অসহায় মণিরা অন্যের বাড়িতে দিনমজুরি করে কোনোরকমে মেয়ের মুখে খাবার তুলে দিতেন।
কিন্তু তাঁদের দুঃখ কষ্টের এই গল্প যখন গণমাধ্যমে উঠে আসে তখন তা নজরে আসে দেশ–বিদেশের অসংখ্য হৃদয়বান মানুষের।
১৪ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অসহায় মা মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তাঁর পক্ষ থেকে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মণিরা ও আফিয়ার হাতে উপহার তুলে দেন।
সেখান থেকেই ঘোষণা করা হয়— মণিরা খাতুনের জন্য একটি বসতঘর নির্মাণ করা হবে। আফিয়ার পড়াশোনার যাবতীয় ব্যয় বহন করবে বিএনপি ।
এছাড়া পরিবারটির সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে যশোর জেলা বিএনপি। জেলা প্রশাসনও এগিয়ে আসে আইনি ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে।
কিন্তু তারেক রহমানের দেওয়া ঘর তৈরির উদ্যোগে জটিলতা দেখা দেয় কারণ, তাঁদের নিজস্ব কোনো জমি ছিল না। ফলে কাজ থমকে যায়।
কিন্তু মানবিকতার গল্প এখানেই শেষ নয়!
বুধবার সামাজিক সংগঠন We Are Bangladesh-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মানবিক পুলিশ সদস্য এস. এম. আকবর সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন।
তিনি মণিরা খাতুনের হাতে জমি কেনার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এর মধ্য দিয়ে আফিয়া ও তাঁর মায়ের মাথা গোঁজার স্থায়ী আশ্রয়ের পথে তৈরি হয় এক বিশাল অগ্রগতি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে আফিয়ার করুণ বাস্তবতা ভাইরাল হওয়ার পর যে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে তা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যায়, অনুপ্রেরণা দেয়, এবং প্রমাণ করে মানুষ মানুষের জন্য ।