শহিদ জয়,যশোর
ভারতের কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ ৯৬ ঘন্টা পর শনিবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে মরদেহগুলো বেনাপোল বন্দরে পৌঁছায়। এর আগে সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসে। নিহত রেবতী সরকারের মরদেহ পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোলকাতাতেই সৎকার করা হয়েছে।
বেনাপোল দিয়ে আসা পাঁচ মরদেহের মধ্যে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও আফসানার বাবা আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের কসমেটিকস ব্যবসায়ী বাবু আহমেদ রয়েছেন।
বাংলাদেশের কলকাতা ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেক জানান, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়ার নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের মরদেহ গ্রহণ করেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান। আর ঢাকার সাভারের সাজুর মরদেহ তার ভাই মনিরুজ্জামান গ্রহণ করেন।
মরদেহ গ্রহণের সময় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল-মামুন সাগর দুই দেশের সরকারের কাছে নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন জানান।
তিনি বলেন,অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকার যেন পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে।
এর আগে শনিবার দুপুরে কোলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে লাশবাহী গাড়িতে করে কফিনগুলো বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সামনে নেওয়া হয়।
সেখানে নিহতদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন এবং বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান মরদেহ দেশে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান বলেন, মরদেহগুলো বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমিন বলেন, কলকাতা থেকে মরদেহ দেশে আনার জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো বেনাপোল দিয়ে দেশে এসেছে।
কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল ৯’-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় ‘আজকের আলো’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শারমীন অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার জন্য তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা কোলকাতায় গিয়েছিলেন। সেখানে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থানকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।
নিহত বাবু আহমেদ সাভারের আমিনবাজার এলাকার কসমেটিকস ব্যবসায়ী ছিলেন। আর সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
এর আগে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছায়। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বিকেলে আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
অন্যদিকে সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে। তার এক স্বজন জানান, কোলকাতায় তাদের আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাদের ব্যবস্থাপনাতেই নিমতলা মহাশ্মশানে সৎকার সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত ও তার ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম আলীকে দাফন করা হবে।
গত ১৯ আগস্ট বুধবার রাত ২টার দিকে কোলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নাগরিক।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
কলকাতার সাংবাদিকদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আবু জাফর নামে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। পাশাপাশি কলকাতায় আটটি অবৈধ হোটেল শনাক্ত করে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।