রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা ও মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার ঘটনা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণা শুধু সাধারণ মানুষের মনেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে কারাগারের ভেতরেও।
অন্য বন্দিদের চরম ক্ষোভ থেকে বাঁচাতে এখন সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দম্পতি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে।
ফাঁসির মঞ্চের কাছেই একা সোহেল রানা
কারা সূত্র জানায়, গত ৭ জুন বিচারিক আদালত এই মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রায় ঘোষণার পর ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রায় সাত দিন আগে সোহেল রানাকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
নৃশংস এই অপরাধের কারণে সাধারণ বন্দি তো বটেই, এমনকি অন্য ফাঁসির আসামিদের মধ্যেও সোহেল রানার প্রতি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তাই নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে কয়েদির পোশাক পরিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সেলে একাকী (নিঃসঙ্গ) রাখা হয়েছে। কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সোহেল রানা যে সেলে আছেন, সেখান থেকে ফাঁসির মঞ্চের দূরত্ব মাত্র ৫০ ফুট।
তিনি আরও জানান, এই কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ বন্দি রয়েছে, যার মধ্যে ফাঁসির আসামিই এক হাজারের ওপরে। সাধারণত ফাঁসির বন্দিদের (যাদের আপিল চলছে) কয়েকজনকে একসাথে একটি সেলে রাখা হলেও, সোহেল রানার ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। অন্য ফাঁসির আসামিরা সেলের বাইরে কিছুটা চলাফেরার সুযোগ পেলেও, সোহেল রানাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তার সেলের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী ফাঁসির রেকর্ড কি স্বপ্নার?
বাংলাদেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো নারী বন্দির ফাঁসি কার্যকর করার নজির নেই। তবে উচ্চ আদালতে যদি রামিসা হত্যার রায় বহাল থাকে, তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার ফাঁসি কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারেই কার্যকর হতে পারে। সেখানে এক মঞ্চে দুই জনের ফাঁসি কার্যকরের ব্যবস্থা রয়েছে।
বর্তমানে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি পৃথক সেলে নিরাপদে রাখা হয়েছে। ঢাকা বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন-২) টিপু সুলতান জানান, কারাবিধি অনুযায়ী স্বপ্নাও কয়েদি পোশাক পরেছেন। রামিসা হত্যার ঘটনায় নারী বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ থাকায় স্বপ্নার সুরক্ষায় তাকে আলাদা সেলে রাখা হয়েছে। এই মহিলা কারাগারে বর্তমানে স্বপ্নাসহ ৩৯ জন নারী ফাঁসির বন্দি রয়েছেন, যাদের সবারই আপিল শুনানি চলছে।
দেশের কারাগারগুলোতে ফাঁসির বন্দি কত?
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও উন্নয়ন) মো. জান্নাত উল ফরহাদ জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট ২ হাজার ৭০৮ জন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন। এর মধ্যে ২ হাজার ৬১৫ জন পুরুষ এবং ৯৩ জন নারী। বর্তমানে এই সব বন্দির মামলাই উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুন নিম্ন আদালতে রামিসা হত্যার রায় হওয়ার পর, বর্তমানে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের দায়ের করা আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। বন্দিদের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীরা সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।