যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির প্রবেশপথ পুনরুদ্ধার করেছে ইরান। সোমবার (১ জুন) সিএনএনের অনলাইন প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
স্যাটেলাইট ছবির বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, ইরান দেশজুড়ে অন্তত ১৮টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গের প্রবেশপথের মধ্যে ৫০টির বাধা সরিয়ে ফেলেছে। পাশাপাশি এসব ঘাঁটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, বিশেষ করে প্রবেশপথের রাস্তা পুনর্র্নিমাণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধরে রেখেছে, যা ভূগর্ভে সংরক্ষিত ছিল এবং বেশিরভাগই হামলায় অক্ষত রয়েছে ।
স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বুলডোজার ও ভারী যানবাহন ব্যবহার করে ধ্বংসপ্রাপ্ত সুড়ঙ্গগুলো আবার চালু করছে। এতে মার্কিন ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লায়ার বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য শুধু লঞ্চার ও ক্রু থাকলেই ইরান আবারও হামলা চালাতে সক্ষম।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে বলা হয়েছে, ইরান এখন আগের চেয়ে দ্রুত গতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পুনরায় শুরু করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ড্রোন সক্ষমতা এবং এক বছরের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন আরও বাড়াতে পারে তেহরান।
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, দেশটির কাছে প্রায় এক হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে। এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি তখনই হবে যখন ইরানের অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ‘শত্রুর কথায় আস্থা রাখে না’।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় চলছে, তবে এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি এবং তা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।