ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে। অথচ ২০২১ সালে সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খার সঙ্গীতাঙ্গন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো সিনেমা হল নেই, কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। এই কালো নকশা কারা করছে? মূলত যারা বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গিয়ে একটি মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের কাছে পরিচিত করতে চায়, তারাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর নয়, বরং জনতার যুদ্ধ ছিল, তেমনি ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। তাই কেউ যদি দেশের গণআন্দোলনকে কুক্ষিগত করতে চায়, তার পরিণতি অতীতে যেমন ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও তার পরিণতি ভালো হবে না।
রুমিন ফারহানা বলেন, বনলতা এক্সপ্রেস একটি পারিবারিক ও সামাজিক ছবি হওয়া সত্ত্বেও তা কেন বন্ধ করে দেওয়া হলো। যে রাষ্ট্রে ধর্ষণ, হত্যা, দুর্নীতি বন্ধ করতে পারে না, সে রাষ্ট্র কেন সিনেমা বন্ধে মদদ দেয়।
তিনি আরও বলেন, গত দুই বছরে মাজার ভাঙা হয়েছে, কবর থেকে তুলে নিয়ে লাশ পোড়ানো হয়েছে, ডানপন্থী উগ্রবাদের উত্থান দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশের মাটি এমন ছিল না। এই দেশে যেমন সুমধুর আযানের ধ্বনি শুনেছি, তেমনি বাউল গানও হয়েছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন জাগে কারা বাংলাদেশকে এখন মৌলবাদের ভূমি বানাতে চায়।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা এমন রাষ্ট্র আশা করি না যে রাষ্ট্র মানুষকে পেছনে নিয়ে যাবে। এ সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্নভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পালনে সার্বিক ব্যবস্থা করার জন্য দাবি জানান।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন সোনালী সকালের সভাপতি ফাহিম মুনতাসির প্রমুখ।
বক্তারা সিনেমা প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ সময় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অবাধ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমা প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কওমি ছাত্রজনতার বিরোধের মুখে প্রদর্শনী স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে সাংঙ্কৃতিক মহলে বিভিন্ন সমালোচনা সৃষ্টি হয়।