পাকিস্তানের গণহত্যার ইতিহাস দীর্ঘ

Share

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের ‘দীর্ঘদিনের কলঙ্কিত’ গণহত্যার ইতিহাসের কথা তুলে ধরে কড়া সমালোচনা করেছে ভারত। জম্মু-কাশ্মীর ইস্যু উত্থাপন করে পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার পর, তার কড়া জবাবে স্থানীয় সময় বুধবার জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পর্বতানেনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত ‘অপারেশন সার্চলাইট’ এবং বর্তমান আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বর্বরতার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের মতো একটি দেশ, যারা নিজের জনগণের ওপর বোমা বর্ষণ করে এবং পদ্ধতিগত গণহত্যা চালায়, তাদের কাছ থেকে এ জঘন্য আচরণ কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়।

এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানায়, নিরাপত্তা পরিষদে ‘সশস্ত্র সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা’ শীর্ষক বার্ষিক উন্মুক্ত বিতর্কে ভারতীয় দূত পাকিস্তানের সহিংস ও অমানবিক চরিত্রের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে যে অভিযান চালিয়েছিল, সেখানে তারা নিজেদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে লাখ লাখ নারীকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের অনুমোদন দিয়েছিল।

একই সঙ্গে ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রসঙ্গও জাতিসংঘে তুলে ধরে। হরিশ পর্বতানেনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষে যখন মানুষ মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন পাকিস্তান কাবুলের মাদকাসক্তি নিরাময় হাসপাতালে কাপুরুষোচিত ও বর্বর বিমান হামলা চালায়। জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশনের (ইউএনএএমএ) তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ২৬৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২২ জন আহত হন। এ ছাড়া পাকিস্তানের সীমান্ত পারের সশস্ত্র সহিংসতার কারণে ৯৪ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং বেসামরিক হতাহতের ৯৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টির জন্যই পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী দায়ী।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অন্ধকারের মধ্যে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইনের বড় বড় কথা বলা এক চরম ভণ্ডামি। বিশ্বাস, আইন ও নৈতিকতাহীন পাকিস্তান দশকের পর দশক ধরে নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশের ভেতরে ও বাইরে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাসী আজ তাদের এই মিথ্যা প্রচারণার আসল রূপ দেখতে পাচ্ছে।

Read more