যশোর অফিস
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদারের বিরুদ্ধে রাস্তার পুরোনো ইট তুলে বিক্রি করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা থেকে ইট তুলে তিন লাখ টাকার বেশি বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকার।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খলশী গ্রামের ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার আবুল হোসেনের বাড়ি হয়ে রবিউলের পুকুর পর্যন্ত প্রায় ৭১৫ মিটার সড়কের একটি অংশে আগে থেকেই এক স্তরের ইট বসানো ছিল। বিভিন্ন প্রকল্প—টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিপি ও ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিল—থেকে ধাপে ধাপে এসব ইট বসানো হয়। সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সড়কটি এইচবিবি (ইটের দুই স্তর) করার জন্য টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরু হওয়ার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন কাজ শুরুর খবর পেয়ে চেয়ারম্যান আবু মোতালেব দ্রুত পুরোনো ইট তুলে বিক্রি করে দেন। হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ থেকে ৪২ হাজার ইট বিক্রি করা হয়েছে, যার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৭ থেকে সাড়ে ৭ টাকা। এতে মোট প্রায় তিন লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের আশপাশের বাসিন্দারাই বেশিরভাগ ইট কিনেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আজগর আলীর পরিবার জানায়, তাঁরা রাব্বানী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সাড়ে সাত টাকা দরে ১ হাজার ৬০০ ইট কিনেছেন। এর মধ্যে আট হাজার টাকা নগদ দিয়েছেন, বাকিটা পরে দেওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি বিভিন্ন পরিমাণ ইট কিনেছেন। অভিযোগ আছে, বাকি ইট ট্রলিতে করে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে।
ইট ব্যবসায়ী রাব্বানী বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি সড়কের একাংশের ইট বিক্রি করেছেন এবং এ বাবদ প্রায় এক লাখ টাকা চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সম্পদ হিসেবে রাস্তার ইট বিক্রি করতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। নিলাম, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া এ ধরনের বিক্রি বৈধ নয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও ভুপালী সরকার। তিনি ইট ক্রয়কারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাটির প্রাথমিক সত্যতা পান। পরে তিনি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান দাবি করেন, ইটগুলো তাঁর হেফাজতে রয়েছে এবং অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে সেসব ইট দেখাতে বলা হলে তিনি স্পষ্ট কিছু দেখাতে পারেননি।
ঘটনাস্থলেই চেয়ারম্যান তাঁর ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার আশ্বাস দেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ইউএনও ভুপালী সরকার বলেন, “সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হবে। আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।