এবার লোহিত সাগর অবরোধের হুঁশিয়ারি দিলো ইরান

Share

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে— এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনো ধরনের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চলতে দেবে না। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নিতে পারে।

খবরে আরও বলা হয়, বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। বিমানবাহী রণতরী ও মেরিন ইউনিটসহ কয়েক হাজার সেনা ইতোমধ্যে রওনা দিয়েছে। এই মোতায়েনকে ইরানের ওপর কূটনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ইরান যদি হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে ইরানের নিজেদের জাহাজ ও ট্যাংকারগুলোকেও একইভাবে আটকে দেওয়া হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ফিরতে দুটি নতুন শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীকে সম্পূর্ণ ও অবাধভাবে পুনরায় খুলে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের প্রতিনিধিদলকে যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে আলোচনায় আসতে হবে, বিশেষ করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সম্মতি থাকতে হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে। তার দাবি, উভয় পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।

জানা গেছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই সপ্তাহের শেষ দিকে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও এখনও কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আলোচনায় ফেরার পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করলেও মার্কিন পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের লোহিত সাগর অবরোধের হুঁশিয়ারি বাস্তবে রূপ নিলে বৈশ্বিক বাণিজ্য, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালীর পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব রুটও বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সমুদ্রপথ। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

 

Read more