আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম)। প্রাথমিকভাবে এ কাজের জন্য দুটি রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শনিবার (১১ এপ্রিল) করা এক পোস্টে সেন্টকোম জানায়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক পিটারসন ও ইউএসএস মাইকেল মারফি ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পেতে রাখা মাইন অপসারণে বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকোমের শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেছেন, ‘আমরা হরমুজে একটি নতুন ও নিরাপদ পথ তৈরির কাজ শুরু করেছি। হরমুজ প্রণালিতে অবাধে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’ খুব দ্রুতই বেসামরিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ অভিযান চালালে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে ইরান। এ অবরোধের অংশ হিসেবে প্রণালির বিভিন্ন জায়গায় জলমাইন স্থাপন করেছিল আইআরজিসি। তবে হরমুজের ঠিক কোন কোন জায়গায় মাইন বসানো হয়েছিল তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না তারা নিজেরাই।
কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাইন পুঁতে রাখার যথাযথ নথি সংরক্ষণ করেনি আইআরজিসি। পাশাপাশি যেসব স্থানের তথ্য আছে, সেসবের অনেক মাইন ভেসে গেছে বা সরে গেছে। ফলে ইরানের পেতে রাখা মাইন অপসারণ এখন নিজদের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে মাইন ধ্বংসকারী যন্ত্রচালিত নৌযান পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। দুই দেশের এ বৈঠক আলোর মুখ না দেখায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সংশয় দেখা দিয়েছে। একদিকে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তৎপর ইরান। প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানি মুদ্রায় টোল আদায় করতে চায় তারা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে অবাধে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করতে দিতে হবে। এমনকি জাহাজ চলাচলে ইরানি মুদ্রায় টোল দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।