কোলাহল থেমে মৃত শহরে পরিণত হচ্ছে তেহরান

Share

তেহরান এখন মৃত শহর। মহামারির দিনের মতোই ফাঁকা। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশ করা এক নাগরিক এ তথ্য বিবিসিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্যস্ততম এলাকা ইরানশাহর স্ট্রিটে বেশির ভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

ওই বাসিন্দা বলেন, ‘এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি– কিছু দিক দিয়ে মহামারির দিনের মতোই। সবাই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করছে। তারা জানে না, পরবর্তী সময় কী হতে পারে। কিন্তু গভীরভাবে আমরা জানি, আজ হোক কাল হোক, এটা শেষ হবে। জীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’

তিনি বলেন, ‘ছবি ও ভিডিও তোলা ঝুঁকিপূর্ণ। তবে ইরানশাহর রাস্তার একটি স্ন্যাপশট তিনি শেয়ার করেছেন। এটি সেই একই জায়গা, যেখানে কয়েক মাস আগে একটি রক ব্যান্ড গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিল। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার শিল্পীদের সংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করে।’

আরেকজন স্থানীয় ব্যক্তি বিবিসিকে জানান, তিনি পাঁচ দিন পর তাঁর বাড়ি ছেড়ে তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে হেঁটেছেন। এটি একটি আবাসিক এলাকা। গত সোমবার রাতে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসকার্নমেন্ট কাউন্সিলের প্রশাসনিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সড়কে নিরাপত্তা বাহিনী কাছাকাছি চেক পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সৌভাগ্যবশত তারা তাঁকে থামায়নি। কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট ছিল সম্পূর্ণরূপে মৃত।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক সংখ্যক বিস্ফোরণ ঘটেছে। যুদ্ধের ষষ্ঠ দিন বৃহস্পতিবার ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইসরায়েলের দিকে। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইরানে এক হাজার ৪৫ জনসহ বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অভিযান রোধের প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে ৫৩-৪৭ ভোটে ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি দেখবে। তেহরানে শুধু মৃত্যু ও ধ্বংস দৃশ্যমান হবে। ইরান তার নাগরিকদের পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা বাড়িয়েছে ইরানের বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৪৮ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইরানে ১৭৫ স্কুলছাত্রীসহ এক হাজার ২৩০ জন। ইসরায়েলে ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭-এ। এ ছাড়া বাহরাইনে একজন, কুয়েতে দুই কুয়েতি সেনাসহ তিনজন, ওমানে একজন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনজন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ছয় সদস্য, সিরিয়ায় চারজন এবং ইরাকে ১১ মিলিশিয়াসহ ১৩ জন। ইরানে হামলায় সমর্থন দেওয়ায় ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। তেহরানের নেতৃত্ব এখন পুরোপুরি বিপর্যস্ত। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছি এবং ইরানের নেতৃত্ব দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। যারা সেখানে নেতা হতে চাচ্ছেন, দেখা যাচ্ছে তাদের সবারই মৃত্যু হচ্ছে।’

ইরানের রাজধানী তেহরানে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালেও ব্যাপক হামলা হয়েছে। তেহরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঝেমধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কেবল রাজধানী নয়, দেশের অন্যান্য শহর থেকেও সামরিক সদরদপ্তর ও রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে একই ধরনের হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং ছয় হাজারের বেশি মানুষ আহত।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজানে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ইরান এ হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা করার দাবি করেছে ইরান। ট্যাঙ্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। তুরস্কের আকাশসীমায় ঠেকিয়ে দেওয়া ব্যালিস্টিক মিসাইলের ঘটনার ব্যাপারেও ইরান অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে ‘কুর্দি সন্ত্রাসী’দের উপস্থিতির ব্যাপারে বাগদাদকে সতর্ক করেছেন। পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমার বাইরে ইরানি নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতা ঘটিয়েছে। এ জন্য তাদের অনুশোচনা করতে হবে। তবে ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছেন, জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া আমাদের উচিত নয়।

ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস: হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানে দুই হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এতে দেশটির শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। বুধবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। লেভিট বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের আকাশসীমার সর্বত্র এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। লেভিট জানান, অভিযানে ইরানের ২০টি নৌযান ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কা উপকূলে ডুবিয়ে দেওয়া একটি সাবমেরিনও রয়েছে।

 

ইরানের পাল্টা হামলা অব্যাহত
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে ১৭ ও ১৮তম দফার হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, তারা ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির বেশ কিছু উন্নত রাডার সিস্টেমকে সফলভাবে নিশানা করেছে। এ ছাড়া কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি আরিফজানে মার্কিন বাহিনীর ওপর আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, ইরান গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ইসরায়েলকে নিশানা করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর জেরে লাখো ইসরায়েলি আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থার বরাত দিয়ে এএফপি বলছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। জেরুজালেমেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
আইআরজিসি হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর নৌরুট এড়িয়ে চলছে পণ্যবাহী জাহাজ। ইসরায়েলে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে বিবিসি। তেল আবিব ও জেরুজালেমে হামলার সতর্কতা হিসেবে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে। আকাশ হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।

আলজাজিরা জানায়, কাতার, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে ছয়জন আহত হয়েছেন। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বাহরাইন প্রতিরক্ষা বাহিনী ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৭৫টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২৩টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কাতারের রাজধানী দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এখানকার মার্কিন দূতাবাসের কাছের বাসিন্দাদের সরিয়ে নিচ্ছে কাতার।

মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাতের দাবি আইআরজিসির
আইআরজিসির নৌবাহিনী গতকাল সকালে উত্তর উপসাগরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। তারা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এ অঞ্চলে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই আঘাত করা হবে। আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, আমরা আগেই বলেছিলাম, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে ইরানের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েত উপকূলে একটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটেছে। সব ক্রু নিরাপদে আছেন।

ইরানের ১০৫ বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত
মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ইরানের ১০৫টি বেসামরিক স্থানে আক্রমণ করেছে। ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ইরানে এক হাজার ৩৩২টি আক্রমণ রেকর্ড করেছে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১০৫টি বেসামরিক স্থানে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি চিকিৎসাকেন্দ্র ও সাতটি রেড ক্রিসেন্ট ভবন অন্তর্ভুক্ত। ইরানের ১৭৪টি শহরে হামলা হয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় এক পরিবারের চার সদস্যসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। ইরানের কোমে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় হামলা করেছে ইসরায়েল। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গতকাল ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন আটজন। দেশটিতে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত। ৩২০টির বেশি স্থানে হামলা হয়েছে। যুদ্ধের সময় ৩০০টি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় ১১ হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, ইরানের জনগণকে ইচ্ছা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ইরান জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজার ৬০০টির বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান পরিকল্পনা নেই: তেহরান
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন ওড়াউড়ি করছে দুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি বাগ্‌যুদ্ধও চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গতকাল এক্স পোস্টে বলেছেন, ইরানের কার্যকর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র বেদনাদায়ক ক্ষতি ভোগ করেছে। ওয়াশিংটনের ‘কোনো প্রস্থান পরিকল্পনা নেই’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গালিবাফ বলেন, ইরান আগ্রাসন পরিচালনাকারীদের শেষ শাস্তি না দেখা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। এর আগে বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা সেক্রেটারি পিট হেগসেথ ইরানের নেতাদের ‘অহংকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যতক্ষণ প্রয়োজন ততক্ষণ এ লড়াই চালিয়ে যাব।’ অন্যদিকে ইরানি জেনারেল কিওমারস হায়দারি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ইরান তার লক্ষ্য অর্জন না করা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর আঘাত না দেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ পরিত্যাগ করবে না।

আজারবাইজানে ড্রোনের আঘাত, অস্বীকার ইরানের
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাখচিভান এক্সক্লেভের একটি বিমানবন্দরে দুই ড্রোন আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে এ হামলার জন্য ইরানকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, আজারবাইজান তেহরানের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে। মন্ত্রণালয় জানায়, একটি ড্রোন ইরান সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাখচিভান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে পড়ে। আরেকটি পড়ে নিকটবর্তী গ্রামের একটি স্কুল ভবনের কাছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই ড্রোন হামলার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আজারবাইজান।

ইরান অস্ত্র দিতে অনুরোধ করেনি: মস্কো
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, চলমান যুদ্ধের সময় রাশিয়া ইরানের কাছ থেকে অস্ত্র পাঠানোর জন্য কোনো অনুরোধ পায়নি। মস্কো ইরানকে অস্ত্রসহ বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। অবশ্য ইরান ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আরব দেশগুলোকে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ব্রিটেন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ
সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো সেখানে যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেটো সংসদকে জানিয়েছেন, আগামী দিনে দ্বীপটিকে রক্ষা করার জন্য ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে। স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মাদ্রিদ একটি ফ্রিগেট পাঠাবে। ফ্রান্সও এতে যুক্ত হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ অর্থনীতির ক্ষতি করছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শেষ করা উচিত।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘সামরিক সরঞ্জাম’ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। যুক্তরাজ্য আরও চারটি টাইফুন জেট পাঠাচ্ছে কাতারে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ ঘোষণা দেন।

যুদ্ধজাহাজ ডুবানোর ফল যুক্তরাষ্ট্র পাবে: আরাঘচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সতর্কতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। এ হামলার ফলাফল তাদের ভোগ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ভারতের নৌবাহিনীর অতিথি ছিল। ইরানি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যে খারাপ নজির স্থাপন করেছে, তার জন্য তারা তীব্র অনুশোচনা করবে। বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে ‘আইআরআইএস দিনা’ নামের ইরানি যুদ্ধজাহাজে সাবমেরিন থেকে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে জাহাজটি ডুবে যায়।
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ঘটনায় তারা ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ৩২ জনকে। জাহাজটিতে ১৮০ জনের মতো আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে আটকা ২০ হাজার নাবিক: জাতিসংঘ
হরমুজ প্রণালিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থার (আইএমও) প্রধান আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ। তিনি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে সেখানে বিপুল সংখ্যক নাবিক আটকা পড়েছেন। ফলে ওই অঞ্চলে নৌ-বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে বিভিন্ন প্রমোদতরীর আরও প্রায় ১৫ হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে মার্কিন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।

কুর্দিদের সমর্থন দিলেন ট্রাম্প
উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টির (পিএকে) কর্মকর্তা খলিল নাদিরি জানান, তাদের বাহিনী সুলাইমানিয়া প্রদেশে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। তারা প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দি বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়কে সমর্থন করেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘কুর্দিরা উদ্যোগ নিতে চায়; আমি এর পক্ষে।’

৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত: ইউএনএইচসিআর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ সংখ্যার মধ্যে গত কয়েক দিনে তেহরান থেকে পালিয়ে যাওয়া আনুমানিক ১ লাখ মানুষ, লেবাননে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮৪ হাজারেরও বেশি এবং আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ন্যাটো প্রস্তুত
ইরানের পক্ষ থেকে আসা যে কোনো হামলা থেকে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রক্ষা করার জন্য ন্যাটো সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের বৈঠকের পর ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ কথা জানান।

Read more