যশোর অফিস
যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকায় অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির ঘটনায় তিন যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কোতয়ালী মডেল থানাতে।
যশোর কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা অভিযোগে শহরের পুরাতন কসবা বিবি রোড এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে মোঃ শফিউল ইসলাম (৩২) লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করেন, গত প্রায় এক মাস ধরে তার এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে রাতের আঁধারে চার্জে রাখা অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি হয়ে আসছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
লিখিত অভিযোগে তিনি তিনজনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা হলেন শহরের মিশন পাড়া এলাকার মুন্নার ছেলে রোস্তম আলী (২৩), ইয়ার আলী সরদারের ছেলে মুন্না (৪৩), ও পুরাতন কসবা এলাকার হাসান আলীর ছেলে শাহরিয়ার নাছিম জয় ওরফে লাদেন (২২)সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার সময় শফিউল ইসলাম তার বসতবাড়ির প্রাচীরের ভেতরে ভাড়া দেওয়া দুটি অটোরিকশা চার্জে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার পিতা দেখতে পান, একটি রিকশার ‘টয়েটো’ ব্র্যান্ডের ব্যাটারি (মূল্য আনুমানিক ২৭ হাজার ৫০০ টাকা) চুরি হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাত ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় ব্যাটারিটি চুরি করা হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে একই কায়দায় পাশের জিয়াদের বাড়িতে চুরির চেষ্টা করা হয়। বাড়ির লোকজন টের পেলে সন্দেহভাজনরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের ধারণা, একই চক্র এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ব্যাটারি চুরি করে আসছে।
পরবর্তীতে ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন সন্দেহভাজন তিনজনকে একটি রিকশাসহ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। অভিযোগে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা বিভিন্ন বাড়ি থেকে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির কথা স্বীকার করে এবং চোরাই ব্যাটারি উপশহরের ‘মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করার তথ্য দেয়।
স্থানীয়রা তাদের নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে মালিক ১২ ফেব্রুয়ারি চারটি ব্যাটারি কেনার কথা স্বীকার করেন এবং সেগুলো ফেরত দেন। পরে ব্যাটারিগুলো স্থানীয় বাসিন্দা রজব আলীর চুরি যাওয়া সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় তাকে ফেরত দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা অন্যান্য চুরি যাওয়া ব্যাটারি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেছে এবং কিছু নিজেদের কাছে রেখেছে বলে স্বীকার করে। দুই দিনের মধ্যে সব ব্যাটারি ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে তারা নিজেদের ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা ও একটি স্যাম্পনি স্মার্টফোন স্থানীয়দের জিম্মায় রেখে চলে যায়। তবে পরবর্তীতে তারা আর ফিরে আসেনি। বর্তমানে ওই রিকশা ও মোবাইল ফোন স্থানীয়দের জিম্মায় রয়েছে।
এ ঘটনায় শফিউল ইসলাম আরও চার সেট (মোট ১৬ পিস) ব্যাটারি উদ্ধারের দাবিতে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্থানীয়দের জিম্মায় থাকা রিকশা ও মোবাইল ফোন থানার হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর মোহাম্মদ কুটি (৭০), মনিরুল ইসলাম টিয়া (৪৭) ও উত্তম চন্দ্র দাস (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত কাজী বাবুল হোসেন বলেছেন, বিষয়টি শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়াহিদুজ্জামান তদন্ত করছেন। তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানান।