যশোর প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন গাতিপাড়া গ্রামে পল্লী চিকিৎসক আল আমিন হত্যার ১ দিন পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ৩ জনকে আটক করেছে। পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন নামমঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন, শার্শার নভারন দক্ষিন বুরুজবাগান গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আলাউদ্দিন আলা, ৩০ একই গ্রামের জামির হোসেন এর ছেলে লালন হোসেন,৩২ ও আব্দুল কাদেরের ছেলে সেলিম মিয়া ৩৪ । আটককৃতরা শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাসান জহিরের বডিগার্ড বলে তারা পুলিশী জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত আলাউদ্দিন যুবদলের সক্রিয় সদস্য এবং অন্য দুইজনও যুবদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আলাউদ্দিন ও সেলিম নাভারন এলাকার চিহিৃত চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ি। সে স্থানীয় বিএনপির এক এক শীর্ষ নেতার একজন কর্মী। নাভারন এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি আয়নাল জয়নালের ভাই সেলিম।
নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়, আল আমিন একজন পুলিশের স্ত্রীকে বিয়ে করে বেশ কিছু দিন আগে। সে তার প্রথম স্ত্রীকে শার্শার কুলফালা গ্রামে রেখে ছোট স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকত। বিগত মাস তিনেক আগে নাভারন এলাকায় এরই সুত্র ধরে আটককৃত আসামিরা আল আমিনকে মারধর করে এবং দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে।
পুলিশ জানায়, শার্শা উপজেরা বি্এনপির সভাপতির ছত্রছায়ায় থেকে তিন সন্ত্রাসী নাভারন এলাকায় চাদাবাজি ও মদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে আসছে দীর্ঘদিন। বিএনপির সভাপতি তাদের থানা থেকে ছাড়ানোর জন্য নিজেই থানায় গিয়েছিলেন। পুলিশের শক্ত অবস্তানের কারনে তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান।
শার্শা থানা ওসি (তদন্ত) শাহ আলম বলেন, আলামিন হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকায় তিনজনকে আটক টক করা হয় । পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলাউদ্দিন আলা, সেলিম ও লালন হত্যাকান্ডে জড়িত থাকাার কথা স্বীকার করেছে। পরে আজ তাদের যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আলামিন হত্যাকান্ডে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে । মামলা নং ১৩ তারিখ ২০/০২/১৬।
উল্লেখ্য গত ১৯ তারিখ রাতে তারাবির নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আলামিনকে এ্ই তিনজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।