দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ সোমবার খুলনা আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। হেলিকপ্টারে খুলনায় এসে দুপুর ১২টায় খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এই জনসভা শেষে দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারে তিনি যশোরের উদ্দেশে খুলনা ছাড়বেন। যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে ২টা ৪০ মিনিটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
তারেক রহমান গত ২২ জানুয়ারি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন। এরপর গত শনিবার পর্যন্ত ১৯টি সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর দলীয়প্রধানের খুলনা বিভাগে আগমন ঘিরে নেতাকর্মীর মধ্যে উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। খুলনা ও যশোরে প্রস্তুত করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। শহর ছাড়াও জনসভাস্থল তারেক রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। তারেক রহমানের আগমন ঘিরে কয়েকদিন ধরে আনন্দ মিছিল ও প্রচারণা চালিয়ে আসছেন দলীয় প্রার্থী, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
বিএনপি নেতারা জানান, ২০০৪ সালে সর্বশেষ খুলনায় এসেছিলেন তারেক রহমান। এবারের জনসভায় পাঁচ থেকে আট লাখ লোক জমায়েতের টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
জনসভার প্রস্তুতির বিষয়ে জানাতে গতকাল রোববার নগরীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে খুলনা মহানগর বিএনপি। সেখানে খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জনসভায় একটি সুস্পষ্ট ও সময়োপযোগী উন্নয়ন রূপরেখা তুলে ধরবেন তারেক রহমান। সুন্দরবন ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জান-মাল রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা মিল-কারখানা ফের চালু, খুলনায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণের নানা পরিকল্পনা তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে।
খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, প্রভাতী স্কুল মাঠের জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়, বরং খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।
প্রথমবারের মতো যশোরে
প্রথমবারের মতো আজ যশোরে আসছেন তারেক রহমান। এ নিয়ে বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। উন্নয়নবঞ্চিত এই অঞ্চলে নির্বাচনী জনসভাটি রাজনীতিতে ইচিবাচক প্রভাব ফেলবে– এমনটাই মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
গতকাল দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে জেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর সারা বাংলাদেশ নতুনভাবে জেগে উঠেছে। নতুন প্রত্যয়, নতুন চেতনা ও নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু বলেন, সোমবারের জনসভা শুধু উপশহর মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি আশপাশের সড়ক ছাড়াও শহর জনসমুদ্রে পরিণত হবে।
নেতারা জানান, জনসভায় যশোর, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বিএনপির ২২ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন তারেক রহমান।
এদিকে তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। তাঁর আগমন ও কর্মসূচি ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিম মাঠে দায়িত্ব পালন করছে। জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, সমাবেশে আসা-যাওয়ার রাস্তা পুলিশের নজরদারিতে থাকবে।