ভালোবাসা আর স্মৃতিতে অমলিন খালেদা জিয়া, কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল

Share

নতুন বছরের প্রথম দিন। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ থাকার কথা, তখন পুরো জাতি যেন এক গভীর শোকের সাগরে নিমজ্জিত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে নেমেছে সাধারণ মানুষের ঢল। হাতে সোনাঝরা রোদের বদলে আজ সেখানে বিষণ্নতা; মানুষের হাতে ফুল আর চোখজুড়ে অশ্রু। লড়াকু নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন।

ভোরের কুয়াশা মাড়িয়ে কেউ এসেছেন বাসে, কেউ ট্রাকে, আবার কেউ কয়েক মাইল হেঁটে। উদ্দেশ্য একটাই—প্রিয় ‘দেশনেত্রী’র কবরের পাশে দাঁড়িয়ে একবিন্দু চোখের জল ফেলা। নিরাপত্তার কড়াকড়ি শেষে লেক রোড খুলে দেওয়ার পরপরই সমাধিস্থলে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের কড়া প্রহরার মধ্যেই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান হাজার হাজার মানুষ।

কবর জিয়ারতে আসা মানুষের মাঝে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে এক গভীর মমত্ববোধ লক্ষ্য করা গেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ জিয়ারত শেষে আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন নির্ভেজাল ও নিবেদিতপ্রাণ গণতান্ত্রিক নেত্রী। তিনি নিজের জন্য কিছু চাননি, সারা জীবন মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন। শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলকে তিনি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লড়াকু শক্তিতে পরিণত করেছিলেন।

সকাল থেকেই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দলের শীর্ষ নেতারা জিয়ারত করতে আসেন। তবে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মিরপুর থেকে আসা এক ব্যক্তি বলেন, গতকালের জানাজায় প্রচুর ভিড় ছিল, তাই আজ সকালে এসেছি। মা ছাড়া বাড়ি যেমন লাগে, দেশটা আজ তেমনই লাগছে। তার ওপর যে পরিমাণ অন্যায় করা হয়েছে, তার বিচার আল্লাহর কাছে রেখে গেলাম।

চাঁদপুর থেকে আসা আরেকজন কিংবা দুই সন্তানকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা এক নারী—সবার মুখেই ছিল এক সাহসী নারীর সংগ্রামের গল্প। ঐ নারী বলেন, তিনি শুধু একজন নেত্রী নন, তিনি আমাদের মতো হাজারো নারীর অনুপ্রেরণা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও তিনি যেভাবে মাথা উঁচু করে লড়াই করেছেন, তা ইতিহাসের পাতায় চিরকাল লেখা থাকবে।

জিয়া উদ্যানের এই অবিরাম জনস্রোত যেন আজ এক নীরব সত্য ঘোষণা করছে—একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রস্থান মানেই তার শেষ নয়। তিনি শারীরিকভাবে চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে তার আদর্শ ও সংগ্রাম চিরকাল অম্লান হয়ে থাকে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর এই বিষাদ নতুন বছরের আনন্দকে ম্লান করে দিলেও, মানুষের এই ভালোবাসা তার ‘আপসহীন’ উপাধিটিকে আরও একবার সত্য প্রমাণ করল।

 

Read more