যশোর প্রতিনিধি
যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীরা কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে শার্শা মিনি স্টেডিয়াম থেকে মিছিলটি বের হয়ে যশোর–বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে মহাসড়কজুড়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের ঢল নামে।
বিএনপির সদ্যঘোষিত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যশোর-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন এবং উপদেষ্টা খাইরুজ্জামান মধু। তাদের দাবি—দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা মাঠে-সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন,মনোনয়ন তাদের মধ্য থেকেই দেওয়া উচিত ছিল।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী কর্মীরা কাফনের কাপড় পরে প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেন ‘সংস্কারপন্থি তৃপ্তি হটাও, শার্শা বাঁচাও’‘মনোনয়ন পরিবর্তন চাই’, ‘ত্যাগীদের সম্মান চাই’ এবং ‘জনগণের প্রার্থী চাই’। মিছিলে বিপুলসংখ্যক ত্যাগী নেতাকর্মী, স্থানীয় মানুষ ও নারীরাও অংশ নেন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন,“আমাদের কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নেই। কিন্তু যাদের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ আছে মনোনয়ন তাদেরই প্রাপ্য। তৃপ্তিকে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীর বিপরীতে মাঠে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।”
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন রিভিউর দাবিতে ১৫ দিন আগে শার্শা উপজেলার ৮৯ জন নেতাকর্মী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত আবেদন পাঠান। আজকের বিক্ষোভ সেই দাবিরই ধারাবাহিকতা।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ,শার্শায় ৮০ শতাংশ বিএনপি নেতাকর্মী মনোনীত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির সঙ্গে একাত্ম নন। তার স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ দুর্বল এবং তৃপ্তিকে মনোনয়ন দিলে ভোটে পার্থক্য গড়ে দেওয়া অসম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন। তাদের প্রত্যয়—মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং ত্যাগী ও জনপ্রিয় কাউকে মনোনয়ন দিলে তারা তাকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবেন।