যশোর প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে বিএনপি। দলীয় অন্তর্কোন্দল কমাতে ও সৎ-যোগ্য নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে তারেক রহমান শুরু থেকেই কড়া বার্তা দিচ্ছেন। ২৩৭ আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ,সড়ক অবরোধসহ ক্ষোভ দেখা দেয়। কিছু নেতা বহিষ্কার হলেও অনেকে কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে ধৈর্য ধরছেন।
বিরোধপূর্ণ আসনগুলোতে প্রার্থী পুনর্মূল্যায়নে শীর্ষ নেতৃত্ব মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রতিটি আসনের অতীত ভোটের ফল, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করলে ভুল সিদ্ধান্তে আসন হারানোর ঝুঁকি বাড়বে।
এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসন। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ শেকড়বিচ্ছিন্ন প্রার্থী দিলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর ক্ষুব্ধ জনতা এমপি আক্তারুজ্জামান বাবুকে কাদা ছুড়ে মারেন—তিনি পরিচিত হন ‘কাদা খাওয়া এমপি’ হিসেবে। পরে দলটি স্থানীয় প্রার্থী দেয়।
এখন ঠিক একই ধরনের বিতর্কে বিএনপি। প্রাথমিক তালিকায় স্থানীয় নয়, রূপসার এক নেতাকে প্রার্থী করায় পাইকগাছা-কয়রায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। নিশ্চিত জয়ে আত্মবিশ্বাসী জামায়াতও আরও সক্রিয়। অথচ ঐতিহাসিকভাবে আসনটি বিএনপির ঘাঁটি।
কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, খুলনার ৬ আসনের মধ্যে ৩টিতে পুনর্বিবেচনার আবেদন গেছে;এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত খুলনা-৬। স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট মোমরেজুল ইসলাম সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় টিম ইতোমধ্যে মাঠের তথ্য যাচাই করছে।
এখন প্রশ্ন—আওয়ামী লীগের মতো ভুল করে ‘কাদা খাওয়া এমপি’র তকমা কি নিতে যাচ্ছে বিএনপি, নাকি প্রান্তিকের মতামত মেনে উপযুক্ত প্রার্থী দিয়ে আসন উদ্ধার করবে—তার উত্তর সময়ই দেবে।