দ্বিন প্রচারে নবী-রাসুলদের নিষ্ঠা ও সততা

Share

নবী-রাসুলরা ছিলেন পৃথিবীর বুকে আল্লাহর প্রেরিত দূত। তাঁরা মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী ও নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন। যেন মানুষ পৃথিবীর বুকে মহান আল্লাহর নির্দেশনা মেনে চলতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সব সংকট থেকে রক্ষা পায়। আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা ছিলেন শতভাগ সৎ ও নিষ্ঠবান।

পবিত্র কোরআনে মহানবী (সা.)-এর ব্যাপারে যেমনটি বলা হয়েছে, ‘তোমাদের সঙ্গী বিভ্রান্ত নয়, বিপথগামীও নয় এবং সে মনগড়া কথাও বলে না। এটা ওহি, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়।’ (সুরা: নাজম, আয়াত: ২-৩)

আয়াতটি মহানবী (সা.)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হলেও তা সব নবীরই বৈশিষ্ট্য ছিল।

মনগড়া কথা বলার অবকাশ ছিল না: আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুল (আ.)-এর জন্য মনগড়া কথা বলার অবকাশই ছিল না। তাঁরা আল্লাহর নামে কোনো মিথ্যা বলেননি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সে যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করত আমি অবশ্যই তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম। আর কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনি, অতঃপর তোমাদের মধ্যে এমন কেউই নাই যে তাকে রক্ষা করতে পারে।’ (সুরা: হাক্কা, আয়াত: ৪৪-৪৭)

পৌঁছে দেওয়া ছিল দায়িত্ব: আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল নবী-রাসুলদের প্রধান দায়িত্ব। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে আর রাসুলের কাজ শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।’ (সুরা: নুর, আয়াত: ৫৪)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে রাসুল! তোমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যথাযথভাবে প্রচার করো, যদি না করো তবে তো তুমি তাঁর বার্তা প্রচার করলে না।’ (সুরা: মায়িদা, আয়াত: ৬৭)

আল্লামা ইবনে জারির তাবারি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ যাদের রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন তাদের একমাত্র অপরিহার্য দায়িত্ব ছিল তাদের রিসালতকে সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে। এমনভাবে আল্লাহর বাণী প্রচার করা, যেন মানুষের কাছে আল্লাহর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে যায়।’ (তাফসিরে তাবারি: ১/৪৪১)

নবীরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন: আল্লামা সাদি (রহ.) বলেন, (সুরা মায়িদার ৬৭ নম্বর আয়াতে) আল্লাহর পক্ষ থেকে মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি অতি গুরত্বপূর্ণ আদেশ; তা হলো আল্লাহর বাণী যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে উম্মত যা কিছু লাভ করেছে তার সবই এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন—আকিদা, আমল, বাণী, শরয়ি বিধান ও আল্লাহর চাওয়া। মহানবী (সা.) তা যথাযথভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি দ্বিনের আহবান জানিয়েছেন ও সতর্ক করেছেন, সুসংবাদ দিয়েছেন এবং দ্বিনকে সহজ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি মূর্খ ও নিরক্ষর জাতিকে শিক্ষা দেন। ফলে তারা আল্লাহভীরু জ্ঞানীতে পরিণত হয়। তিনি তাঁর কথা, কাজ, কোরআন ও আল্লাহ প্রদত্ত প্রজ্ঞার মাধ্যমে দ্বিন প্রচার করেছেন। পৃথিবীর সব কল্যাণ তিনি তাঁর উম্মতের সামনে উপস্থাপন করেছেন এবং সব অকল্যাণ বিষয়ে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন। তাঁর দ্বিন প্রচারের সাক্ষ্য দিয়েছে উম্মতের শ্রেষ্ঠ সন্তান সাহাবিরা এবং তাদের পরবর্তী ইমামরা ও সাধারণ মুসলমানরা। (তাফসিরে সাদি, পৃষ্ঠা-২৩৯)

উম্মতের দায়িত্ব: নবী-রাসুল (আ.)-এর দায়িত্ব হলো উম্মতের কাছে দ্বিন পৌঁছে দেওয়া আর উম্মতের দায়িত্ব হলো তাঁদের আনুগত্য। নিম্নোক্ত আয়াতে আল্লাহ তাআলা এভাবেই দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তাঁর আনুগত্য করলে সৎপথ পাবে, আর রাসুলের কাজ শুধু স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।’ (সুরা: নুর, আয়াত: ৫৪)

খেয়ানতের ধারণা করা পাপ: আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের বিশ্বাস হলো, কোনো নবী আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে খেয়ানত বা অবহেলা করেছেন এমনটি বলা নাজায়েজ। কেউ যদি এমন বিশ্বাস করে তবে তার ঈমান থাকবে না। ইমাম খাজেন (রহ.) বলেন, উম্মত এ বিষয়ে একমত যে ওহি ও সতর্ক করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) খেয়ানত করেছেন এমন অপবাদ দেওয়া নাজায়েজ। তাঁর প্রতি অবতীর্ণ কোনো কিছুই তিনি পৌঁছে দেওয়া থেকে বিরত থাকেননি।’ (তাফসিরে খাজেন: ২/৪৭৪)

আল্লাহ সবাইকে দ্বিনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

Read more