সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের বিধিমালায় বড় পরিবর্তন এনে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নারীদের জন্য পূর্বনির্ধারিত বিশেষ কোটা বাতিল করে নতুনভাবে ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ নামে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে কত নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে, তা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পাশ নম্বর ও পরীক্ষার সময় কতটুকু হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।
৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় পাশ নম্বর ৪৫ নম্বর। মৌখিকে পাশ নম্বর ৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ৯০ মিনিট আর মৌখিকের জন্য সময় নির্ধারিত নয়।
বিধিমালার তফসিল-২-এর তথ্যমতে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে চারটি বিষয়ে। সেগুলো হলো বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি)। চারটি বিষয়ে মোট ৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে।
বাংলা ও ইংরেজিতে ২৫ নম্বর করে মোট ৫০ নম্বর এবং গণিত ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান এবং সাধারণ জ্ঞানে (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি) ২০ নম্বর করে মোট ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা হবে ১০ নম্বরের।
৯০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় পাশ নম্বর (মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ) হবে ৪৫ নম্বর। আর মৌখিক পরীক্ষায় পাশ নম্বর (১০–এর মধ্যে ৫০ শতাংশ হিসাবে) হবে ৫ নম্বর। লিখিত পরীক্ষায় ৯০ মিনিট সময় দেওয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত নয়।
নতুন জারি করা বিধিমালায় বলা হয়েছে, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর আগের বিধিমালা, অর্থাৎ ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’ রহিত বলে বিবেচিত হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতে পারে।