ঋণের চাপ সইতে না পেরে স্ত্রী সন্তান কে খুন করে নিজে আত্মঘাতি এক ব্যাবসায়ি

মাধঘোপা নিউজ ডেক্স: করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্যবসা-বাণিজ্যে খুব একটা ভাল চলছে না। ব্যবসায় মন্দাভাব চললেও যাদের কাছ থেকে এতোদিন ঋণ নিয়ে ব্যবসায় চালিয়েছেন তাদের চাপ সামাল দিতে না পেরে স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করে নিজে আত্মঘাতি পথ বেছে নিয়েছেন কামড় ব্যবসায়ী সমীরকুমার গুহ (৫৮)। ঘটনাস্থলে সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে সমীর জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বিক্রি করে যেন পাওনাদারদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়।ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের সোদপুর এলাকায়। শুক্রবার (০৪ জুন) সকালে থেকেই চাঞ্চল্য ঘটনাটি সোদপুরের বসাক বাগান এলাকায় ছড়িয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে খড়দহ থানার পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনা মহামারিতে ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেওয়ায় কাপড় ব্যবসায়ী সমীর বেশ কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তিনি যেমন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন, তেমনই তাকে বাইরে খুব একটা দেখা যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকালে সমীরের বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘরের দরজা ভেঙে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশের ভাষ্যমতে, স্থানীয়রা খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে দুর্গন্ধ নাকে ভেসে আসে। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশেই দেখা যায় স্ত্রী ঝুমা গুহ (৪৮) এবং ছেলে বাবাই গুহ (২৩)-র দেহ পড়ে রয়েছে। সমীরবাবু গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতি পথ বেছে নিয়েছেন। ঝুমা এবং বাবাইয়ের দেহে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনার জেরে সোদপুর বসাক বাগান এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে সমীর জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বিক্রি করে যেন পাওনাদারদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনা নিয়ে ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা বলেছেন, দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। সূত্র: আনন্দবাজার